চাইলেই আমরা যে কেউ সান্তা ক্লজ হতে পারি

চাইলেই আমরা যে কেউ সান্তা ক্লজ হতে পারি

বাসে বসে ঘামছি। বিকেলের গুমোট গরম। কন্ডাক্টারকে জিজ্ঞাসা করে জানলাম বাস ছাড়তে এখনও মিনিট কুড়ি।

শহরে বড়দিন আসছে। একদল পাখি কিচমিচ করতে করতে সান্তা ক্লজের একটা বড় কাট আউটের ওপর থেকে উড়ে গেল। সান্তা আমাদের দিকে একগাল হেসে হাত নাড়ছেন। নিচে বিজ্ঞাপনের একরাশ লাল-নীল-হলুদ অক্ষর। সান্তা ক্লজকে দিয়ে বিজ্ঞাপন করাতে পয়সা লাগে না। যে যেখানে খুশি, যেভাবে খুশি সান্তার ছবি ব্যবহার করে নিজেদের পণ্য বেচতে। বেশ হত যদি একদিন সান্তা এসে বলতেন – “হো হো হো... মেরি ক্রিসমাস... এই যে দোকানদারবাবু, আপনার দোকানের বাইরে আমার ছবি ব্যবহার করার জন্যে পাঁচ হাজার টাকা দিন তো।” তারপর সেই টাকা নিয়ে সান্তা কী করতেন? ঐ টাকায় বই কেনা হত অনেক পেন্সিল বক্স, রংচঙে কালার পেন্সিল, জুতোমোজা, স্কুল ব্যাগ,‌ ওয়াটার বটল...যাদের ইস্কুলে যাওয়ার সামর্থ্য নেই, তাদের ইস্কুলের ফিজ় দেওয়া হত। সান্তা ক্লজ গরীব বাচ্চাদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে উপহার দিতেন নিশ্চয়।

এইসব ভাবতে ভাবতে নিজের মনেই হাসলাম। সত্যি করেই যদি একজন সান্তা ক্লজ থাকতেন, কী সুন্দরই না হতে পারত পৃথিবীটা।

গরমের চোটে তেষ্টা পেয়ে গেল। পকেট থেকে রুমাল বের করে মুখের ঘাম মুছে ব্যাগ হাতড়ে দেখি জলের বোতলটা নেই। কী করে উধাও হল তা নিয়ে মাথা ঘামানোর ধৈর্য নেই। হাত থেকে রুমালটা বাসের সিটে রেখে ব্যাগ হাতে নামলাম। বাস টার্মিনাসের লাগোয়া একটা দোকান থেকে একটা মিনারেল ওয়াটারের বোতল নিয়ে ফিরতে যাব, দেখি একটা বাচ্চা মেয়ে হাত পেতে দাঁড়িয়েছে সামনে। গায়ে মলিন পোশাক। তার গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে তেমনই একটা ছোট্ট ছেলে। ভাইবোনে ভিক্ষা করতে বেরিয়েছে। আজকাল শহরগুলোতে এই একটা ভালো ব্যবসা। বাবা-মা হয়তো ফুটপাথে থাকে বা বস্তিতে। হয়তো মুটেগিরি করে বা করে না। বাচ্চাগুলোকে পাঠিয়ে দিয়েছে ভিক্ষা করতে। পাশ কাটিয়ে যেতে গিয়েও কী মনে করে বিরক্ত হয়ে এক টাকার একটা কয়েন এগিয়ে দিলাম। মেয়েটা হাত সরিয়ে নিল। আঙুল তুলে দোকানের দিকে দেখালো। সেদিকটাতে রঙবেরঙের বেলুন ঝোলানো। আমার কাছে আগে কেউ কখনও বেলুন ভিক্ষা চায়নি, তাই একটা বেলুন কিনে মেয়েটাকে দিলাম। মেয়েটা বেলুনটা তার ভাইয়ের হাতে দিল। তারপর ছুটতে ছুটতে ভিড়ে মিশে গেল দুজন।

“বাচ্চা দুটোর খুশি মুখ যদি তোমরা দেখতে।” রাঙাদাদু গল্প শেষ করলেন, “সান্তা ক্লজের বড় কাট আউটটার তলায় আর সব কিছু মুছে বড় বড় করে লিখে দেওয়া উচিত – চাইলেই আমরা যে কেউ সান্তা ক্লজ হতে পারি।”

  • Rohon বুধবার 11 জানুয়ারি 2012

    সবাইকে সৃষ্টি ২৫-এর শুভেচ্ছা।

  • আইভি চট্টোপাধ্যায় রবিবার 15 জানুয়ারি 2012

    খুব ভালো লাগলো ।

  • কৌশিক ভাদুড়ী বুধবার 18 জানুয়ারি 2012

    ভালো লাগলো কারণ এ লেখা ভালো লাগেনা এমন লোকের সংখ্যা এখনও খুব বেশি হয়নি. প্রশ্ন হলো কতটা কি করতে পারি, যতটা করতে পারি বা ভাবি করলাম বলে সেটা কি সত্যিই কিছু করা? না শুধু নিজেকে সাময়িক খুশি করা? যাই হোক সাময়িক ভাবে মনুষ্যত্বের পায়ের কাছে বসার সুখ-ও তো কিছু কম নয়. আমার জীবন পরিক্রমায়-ও অনুরূপ কিছু অভিজ্ঞতা ঘটেছে, সে প্রসঙ্গ পরে কোথাও কোনোখানে.

  • Sanhita সোমবার 30 জানুয়ারি 2012

    darun

  • সায়ক সোমবার 20 ফেব্রুয়ারি 2012

    অপূর্ব।

  • 7 + 7 =